বাংলাদেশ উদ্ভাবনের যাত্রা শুরু করেছে -মোস্তাফা জব্বার

বাংলাদেশ উদ্ভাবনের যাত্রা শুরু করেছে -মোস্তাফা জব্বার

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের মূল ভিত্তি হচ্ছে উদ্ভাবন। উদ্ভাবনে অতীতে পিছিয়ে থাকার কারণে তিনটি শিল্প বিপ্লবে এই ভূখন্ডের মানুষ শরীক হতে পারেনি। ডিজিটাল বিপ্লব সফল করতে দেশের প্রতিভাবান তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনাময় উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগানোর বিকল্প নেই। বাংলাদেশ এখন উদ্ভাবনের যাত্রা শুরু করেছে।

মন্ত্রী আজ সাভারে শেখ হাসিনা যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আসিসিটি বিভাগের উদ্যোগে সিআরআই এবং ইয়ং বাংলার সহযোগিতায় ‘আমার উদ্ভাবন, আমার স্বপ্ন শীর্ষক আয়োজিত স্টুডেন্ট স্টার্ট আপ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে এখন উদ্ভাবনের ভারসাম্য বদলে যাচ্ছে। তিনটি শিল্প বিপ্লবের নেতৃত্বকারি দেশ গুলো চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের নেতৃত্বের জায়গায় থাকতে পারছেনা। অতীতে আমাদের দেশে উদ্ভাবনকে কখনো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলার সংস্কৃতিতে মিশে ছিলো অন্যের উদ্ভাবন নিজের দেশে এনে বাজারজাত করা। উদ্ভাবন করার বিষয়টি কখনো চিন্তা করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ উদ্ভাবনের যাত্রা শুরু করেছে। বাংলাদেশ শতকরা ৬৫ ভাগ তরুণ শক্তিকে সৃজনশীলতায় কাজে লাগাতে পারলে গোটা পৃথিবী অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখবে বিস্ময়কর এক বাংলাদেশ।

তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী উদ্ভাবনে সরকারের বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচির তুলে ধরে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একাত্তরে শুন্য থেকে তুলে এনে যে দেশটির গোড়াপত্তন করে ছিলেন সেই দেশটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা‘র হাত ধরে একটি মহিরূহে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবের নেতৃত্বকারি দেশ হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেছে।

জনাব মোস্তাফা জব্বার বলেন, উদ্ভাবনী সংস্কৃতি বিকশিত করতে না পারলে অতীতের পেছনে পড়ার জায়গা অতিক্রম করে সামনে এগুনো কঠিন হবে। ইউরোপ কিংবা আমেরিকায় বেশীর ভাগ উদ্ভাবন করেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার উদ্ভাবনে সহায়তা করে ভিন্ন চিত্র তৈরি করছে।

মন্ত্রী উদ্ভাবনের পাশাপাশি উদ্ভাবনী সম্পদ সুরক্ষার প্রবণতা থাকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, মানুষের চরিত্রই হচ্ছে নতুন কিছু আবিস্কার করা। কিন্তু সেই আবিস্কারের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা দরকার। অর্থাৎ আবিস্কারটি জনগণের কল্যানে আসছে কীনা এবং উদ্ভাবনটি উদ্ভাবককে বাণিজ্যিকভাবে বেঁচে থাকার শক্তি দেয় কীনা।

অনুষ্ঠানে আইসিটি বিভাগের সচিব এনএম জিয়াউল আলম, বিসিসি নির্বাহী পরিচালক পার্থপ্রতীম, সিআরআই নির্বাহী পরিচালক সাব্বির বিন শামস এবং আইডিয়া প্রকল্পের পরিচালক সৈয়দ মজিবুল হক বক্তৃতা করেন।

চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১২০টি দল অংশ গ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারিদের মধ্যে পাবনা বিজÍান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয় প্রথম এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দল দ্বিতীয় স্থান লাভ করে। মন্ত্রী বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

Leave a Comment