শিল্প সংস্কৃতির মেলবন্ধনের মাধ্যমে দূর হবে অপসংস্কৃতির অন্ধকার -যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

শিল্প সংস্কৃতির মেলবন্ধনের মাধ্যমে দূর হবে অপসংস্কৃতির অন্ধকার -যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

শিল্প সংস্কৃতির মেলবন্ধনের মাধ্যমে দূর হবে অপসংস্কৃতির অন্ধকার। বর্তমান সরকারের সমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন তখনই পূর্ণতা পাবে যখন শিল্পী সুৃলতানের এমন জীবন দর্শন সবার কাছে উন্মোচিত হবে। বলেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এম পি। আজ শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চিত্রা নদীর শেখ রাসেল সেতু এলাকা থেকে এস এম সুলতান সেতু পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার জুড়ে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন ও এসএম সুলতান ফাউন্ডেশন আয়োজনে এবং প্রাণ আপের সহযোগিতায় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এম পি । তিনি বলেন, শিল্প সংস্কৃতির পীঠস্থান চিত্রা মধুমতি বিধৌত নদীমেখলা সবুজ সুন্দর নড়াইলের এ পূর্ণ্য ভূমিতে  এ মহতী অনুষ্ঠানে  উপস্থিত হতে পেরে আমি আনন্দিত। শিল্পী এস এম সুলতানকে চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্য গ্রাম বাংলার জনপ্রিয় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা আয়োজনের সুন্দর এ উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই।  নিঃসন্দেহে এই উদ্যোগ শিল্পী সুলতান ও তার চিত্র কর্ম সম্পর্কে  নতুন প্রজন্মকে জানতে সাহায্য করবে। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে  উপস্থিত ছিলেন  যুব ও ক্রীড়া সচিব ড. জাফর উদ্দীন,   খুলনা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নিশ্চিন্ত পোদ্দার , জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম, সুলতান ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মিকু প্রমুখ। নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে চিত্রা নদীর দু’পাড়ে সৃষ্টি হয় আনন্দ-উৎসব। বৈঠারটান, ঢাক-ঢোলের শব্দ ও কাঁসা-পিতলের ঝংকারে চিরচেনা চিত্রার রূপ যেন হঠাৎ বদলে গিয়েছিল। মাঝি মাল্লাদের ‘হেইয়্যা’ ‘হেইয়্যা’… হর্ষধ্বনির আওয়াজ ছিল আরও বেশি ছন্দময়। নৌকা বাইচে নারীদের চারটি এবং পুরুষদের ১০টি নৌকা অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে  পুরস্কার দেওয়া হয়। নড়াইলের চিত্রা নদীতে নৌকাবাইচ শুরু হলেও সকাল থেকেই বিভিন্ন পেশার মানুষ নদীর দু’পাড়ে ভিড় করেন। বিকেলে নৌকাবাইচ শুরুর আগেই চিত্রা নদীর দুইপাড়, বাসাবাড়ি ও রূপগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ছাদসহ গাছে গাছে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। নদীতে নৌকা, ট্রলার, স্পিডবোটে করে বিভিন্ন বয়সের হাজারও মানুষ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। নৌকাবাইচ উপলক্ষে চিত্রা নদীর পাড়ে, বাঁধাঘাটে এবং বিভিন্নস্থানে মিষ্টিসহ বিভিন্ন পণ্যের পসরা বসেছিল। সুষ্ঠু-সুন্দরভাবে প্রতিযোগিতা শেষ করতে পেরে খুশি আয়োজকরা। এসএম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। অসুস্থ অবস্থায় ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার পর নড়াইলে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। চিত্রশিল্পের মূল্যায়ন হিসেবে ১৯৮২ সালে ‘একুশে পদক’ ১৯৮৪ সালে ‘রেসিডেন্ট আর্টিস্ট’ ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারু শিল্পী সংসদ সম্মাননা’ এবং ১৯৯৩ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ পেয়েছেন। এছাড়াও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’,  নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’  এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’  পুরস্কার লাভ করেন।

Leave a Comment