শনিবার, ০৪ Jul ২০২০, ০১:২৭ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ :
প্রধানমন্ত্রী নিজেই পাটকল শ্রমিকদের দায়িত্ব নিয়েছেন: পাটমন্ত্রী ভার্চুয়াল  বৈঠকে সাবেক কূটনীতিকদের পরামর্শ নিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত ৩১১৪ ও মৃত্যু ৪২ উত্তেজনার মাঝেই লাদাখ সফরে গেলেন মোদি জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ফারুক কাজী মারা গেছেন ভারতের রপ্তানি পণ্য গ্রহণ না করার প্রতিবাদে আমদানিও বন্ধ ৬ থেকে ৭ মাসের মধ্যে করোনার টিকা বাংলাদেশের বাজারে ছাড়বে গ্লোব গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ৩৮, আক্রান্ত ৪০১৯ খাদ্যে ভেজালকারীরা জরিমানা নিয়ে আর প্রশ্ন তুলতে পারবে না : মেয়র তাপস দেশে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা

বিদেশ থেকে ফিরছে শ্রমিক : রেমিট্যান্সে ধাক্কার আশঙ্কা

কামরুজ্জামান খান : পরিবার পরিজন নিয়ে একটু ভালো থাকার আশায় পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। একদিকে শ্রমবাজার যেমন ছোট হয়ে এসেছে অন্যদিকে প্রবাসে মাথার ঘাম পায়ে ফেলা অধিকাংশ শ্রমিক ভালো নেই, সেখানে কাটছে তাদের দুর্বিসহ জীবন। ঋণ করে বা সর্বস্ব বিক্রি করে বিদেশে পাড়ি জমানো শ্রমিকদের অনেকে ফিরছে নিঃস্ব হয়ে, শূন্য হাতে। আবার অনেকের স্বপ্ন ফিরছে কফিনবন্দি লাশ হয়ে, অনেকের ঠাঁই হচ্ছে বিদেশের কারাগারে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ, সৌদির বাজারে সুখবর নেই। মধ্যপ্রাচ্যেও মন্দাদশা। দক্ষ জনশক্তির অভাবে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে রেমিট্যান্স।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবমতে, গত বছরের নভেম্বরে ১৫৫ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলার, ডিসেম্বরে ১৬৯ দশমিক ১৬ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসলেও জানুয়ারিতে তা কমে হয়েছে ১৬৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, শ্রমিকরা আসা যাওয়ার মধ্যেই রয়েছে। এটি চলমান প্রক্রিয়া। এতে রেমিট্যান্সে কোনো প্রভাব পড়বে না।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক শামছুল আলম বলেছেন, অসহায় লোকজন যাতে অবৈধভাবে বা দালালদের মাধ্যমে বিদেশে না যায় সরকার সে ব্যাপারে জনসচেতনতা বাড়াতে এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে। সবাইকে ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন করতে বলা হচ্ছে। তিনি বলেন, অবৈধভাবে এবং দালালের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার কারণে প্রতারিত হয়ে শ্রমিকরা ফিরছে। তবে এতে রেমিট্যান্সে কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে না বলে তিনি দাবি করেন।

ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেছেন, দেশে ফেরত আসা কর্মীদের সবার অভিযোগ অভিন্ন। তাদের প্রত্যেককে নানা স্বপ্ন দেখিয়েছিল দালাল ও রিক্রুটিং এজেন্সি। কিন্তু সৌদি আরবে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়েন তারা। অনেকে বেতন পাননি। অনেকে সৌদি আরবে যাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে ফেরত এসেছেন।

বিএমইটির হিসাবমতে, ১৯৯১ থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবর মোট আট লাখ ৮৭ হাজার ৪৩২ জন নারী শ্রমিক বিভিন্ন দেশে গেছেন। বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি নারী শ্রমিক গেছেন সৌদি আরবে। ১৯৯১ থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সংখ্যাটি ছিল তিন লাখ ৩২ হাজার ২০৪ জন। ২০১৯ সালের প্রথম দশ মাসে ৫৩ হাজার ৭৬২ জন নারী সৌদি আরব গেছেন। ২০১৭ সালে সর্বোচ্চ সংখ্যক (৮৩ হাজার ৩৫৪ জন) নারী শ্রমিক সে দেশে গেছেন। তবে গত জানুয়ারি মাসে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছে এক হাজার ৭৭৬ জন শ্রমিক। গত সাড়ে ৪ বছরে সৌদি আরব থেকে ফিরেছেন আট হাজারের বেশি নারী শ্রমিক। গত বছরের নভেম্বরের প্রথম দুই সপ্তাহে নারী-পুরুষ মিলিয়ে সৌদি থেকে ফিরেছে এক হাজার ৮৩৪ জন শ্রমিক। জর্ডানে বাংলাদেশি নারী শ্রমিকের সংখ্যা এক লাখ ৫৫ হাজার ৪১১ জন। সর্বোচ্চ সংখ্যক গেছেন ২০১৬ সালে ২২ হাজার ৬৮৯ জন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০১৫ সালে সর্বোচ্চ ২৪ হাজার ৩০৭ জন নারী শ্রমিক যায়। সবমিলিয়ে দেশটিতে যাওয়া বাংলাদেশি নারী শ্রমিকের সংখ্যা এক লাখ ৩০ হাজার ৫৭১ জন। ১৯৯১ থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত লেবাননে গেছেন এক লাখ ৬ হাজার ৮৪০ জন নারী শ্রমিক। ওমানে যাওয়া বাংলাদেশি নারী শ্রমিকের সংখ্যা ৮৬ হাজার ১৩২ জন। ১৯৯১ থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত কাতারে গেছেন ৩২ হাজার ২৫৯ জন নারী। পর্যটনের জন্য বিখ্যাত দ্বীপরাষ্ট্র মরিশাসে ১৭ হাজার ৯২৩ জন নারী শ্রমিক গেছেন। ভারত মহাসাগরঘেঁষা এই দেশটিতে বাংলাদেশি নারী শ্রমিকরা গার্মেন্ট ও মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণে যুক্ত আছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া হোটেল-রেস্তোরাঁতেও তারা কাজ করছেন। কুয়েতে যাওয়া বাংলাদেশি নারী শ্রমিকের সংখ্যা নয় হাজার ১৯ জন। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ায় সবচেয়ে বেশি নারী শ্রমিক গেছেন। এর সংখ্যা ছয় হাজার ৬৩৮ জন। মধ্যপ্রাচ্যের দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইন গেছেন চার হাজার ২৯০ জন নারী শ্রমিক। অবশ্য যে পরিমাণ নারী শ্রমিক বিদেশে গেছেন তার একটি বড় অংশ কষ্টের স্মৃতি নিয়ে দেশে ফিরেছেন। তবে ইতালিতে ছোট পরিসরে যে শ্রমবাজার রয়েছে তা এখনো সুরক্ষিত বলে জানা গেছে।

এদিকে প্রবাসের কষ্টকথা স্মরণ করে নভেম্বর সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে নরসিংদীর মিন্টু মিয়া বলেছেন, চার লাখ টাকা খরচ করে পাঁচ মাস আগে ক্লিনারের কাজ নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে কাজ শেষে রুমে ফেরার সময় পুলিশ ধরে তাকে। আকামা দেখানোর পরেও তাকে দেশে ফিরতে হয়। পটুয়াখালীর শাহিন সরদার, ময়মনসিংহের আশরাফুল, সুমন ও শফিক, নরসিংদীর সালাউদ্দিন, মানিকগঞ্জের আমিনুল, মুন্সীগঞ্জের মামুন কবিরসহ আরো অনেকেই ফিরেছেন তার সঙ্গে। তারা ফিরেছেন মাত্র এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে।

শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
IT & Technical Supported By BiswaJit