বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন

দিল্লিতে সিএএ নিয়ে সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৭, ১৪৪ ধারা জারি

ভারতে নাগরিত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে গতকাল রাজধানী দিল্লিতে সংঘর্ষের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাতজনে। নিহতদের মধ্যে একজন পুলিশের হেড কনস্টেবলও রয়েছে। এছাড়া ইটের আঘাতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে।

গতকালের ধারাবাহিকতায় আজ সকালেও উত্তপ্ত হয়ে উঠে দিল্লি। এদিন সকালে মৌজপুর এবং ব্রহ্মপুরীতে ফের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। পরস্পরকে লক্ষ্য করে শুরু হয় পাথরবৃষ্টি। জ্বালিয়ে দেয়া হয় বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলও। দুপুরে গুলিও চলে সেখানে।

এছাড়া মৌজপুরে একটি ই-রিকশায় ভাঙচুরও চালানো হয়। এসময় রিকশার যাত্রীদের মূল্যবান জিনিসপত্রও লুঠ করে দুষ্কৃতীরা। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র‌্যাফ)। উদ্ধার হয় কার্তুজের খোল। এলাকায় ফ্ল্যাগ মার্চ করে তারা। আপাতত সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে জানা গেছে।

মৌজপুর এবং ব্রহ্মপুরীর মতো একই পরিস্থিতি কারওয়াল নগরে। ভোররাতে সেখানে একটি টায়ার কারখানায় বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে দেয় বলে জানা গেছে। আগুন ধরানো হয় বেশ কিছু গাড়িতেও।

সিএএ নিয়ে হঠাৎ সহিংসতার ঘটনায় পুরো পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দিল্লি পুলিশ। তারা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সহিংসতা অব্যাহত আছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।

এদিকে সিএএ সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ চরম আকার ধারণ করায় গতকালই রাজধানীর একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছিল। এদিনও জাফরাবাদ, মৌজপুর-বাবরপুর, গোকুলপুরী, জোহরি এনক্লেভ এবং শিব বিহার মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। ওইসব স্টেশনে বন্ধ রাখা হয়েছে মেট্রো চলাচলও।  উত্তর-পূর্ব দিল্লির সমস্ত সরকারি এবং বেসরকারি স্কুলও বন্ধ রাখা হয়েছে। একাধিক জায়গায় জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা।

অন্যদিকে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, দিল্লির কিছু জায়গায় যে পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে তা নিয়ে আমি চিন্তিত। শহরের সর্বত্র যাতে শান্তি বজায় থাকে, একজোট হয়ে আমাদেরই তা সুনিশ্চিত করতে হবে। সকলকে আমার অনুরোধ, সহিংসতা পরিহার করুন। যেখানে যেখানে বিক্ষোভ হচ্ছে, সেখানকার বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে বসছি আমি। কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলবো।

মূলত দিল্লির আইন-শৃঙ্খলা কেন্দ্রের হাতে রয়েছে। তাই সংঘর্ষের পর গতকালই লেফটেন্যান্ট গভর্নর অনিল বৈজলের সঙ্গে একদফা বৈঠক করেন কেজরিওয়াল। বাহিনী পাঠানো হবে বলে বৈজল তাকে আশ্বস্ত করেছেন বলে তখন জানান কেজরিওয়াল। কিন্তু আজ নতুন করে সহিংসতা ছড়ানোয় ফের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

তবে দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল রাতেই দিল্লি পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও হাজির ছিলেন ওই বৈঠকে।  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মুহূর্তে রাজধানীতে রয়েছেন। তাই যত শিগগিরই সম্ভব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, সিএএ-র বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহ ধরেই জাফরাবাদ, সীলামপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান বিক্ষোভ চলছিল। কিন্তু রোববার সিএএ-র সমর্থনে পাল্টা মিছিল করেন বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র। তিনদিনের মধ্যে বিক্ষোভ না সরালে তারা কাউকে মানবেন না এবং রাস্তায় নেমে আসবেন বলেও হুমকি দেন তিনি। এরপরই জাফরাবাদসহ আশাপাশের এলাকার পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে।

শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
IT & Technical Supported By BiswaJit